1. s.m.s.journalist.bd@gmail.com : kalmakanda :
  2. multicare.net@gmail.com : news : Kalmakanda News Online
কলমাকান্দায় আদালতের নির্দেশনা উপেক্ষিত, নিরব প্রশাসন
মঙ্গলবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৫:০৭ অপরাহ্ন

কলমাকান্দায় আদালতের নির্দেশনা উপেক্ষিত, নিরব প্রশাসন

  • প্রকাশিত: শনিবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২১
  • ১৫৯৫ বার পড়া হয়েছে

এসএম শামীম : নেত্রকোনার কলমাকান্দায় আদালতের নির্দেশনা উপেক্ষা করে নির্দিষ্ট সীমানার বাইরে গিয়ে সম্পূর্ণ অবৈধভাবে উত্তোলন করা হচ্ছে কোটি টাকার বালু ও পাথর। শুধু তাই নয়, এসব বালু ও পাথর বহনকারী শত শত লড়ি আর হ্যান্ডটলির চলাচলে ধ্বংস এখন কলমাকান্দা-বরুয়াকোনা ও কলমাকান্দা-পাঁচগাঁও সড়ক। তবে, দিনরাত অবৈধ এই কর্মযজ্ঞ অব্যাহত থাকলেও বিশেষ কারণে নিরব ভুমিকায় রয়েছে কলমাকান্দা উপজেলা প্রশাসন।

এদিকে কলমাকান্দা উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা চন্দন বিশ্বাস বলেছেন, স্থানীয় এমপি মানু মজুমদারের বদৌলতে এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সোহেল রানার যোগসাজশে এ কার্য সম্পাদিত হচ্ছে। তিনি বলেন, আমি ৪-৫ টা এউএনও হাতিয়েছি, এমন পিকুলিয়ার একটাও পাইনি। সে (ইউএনও) প্রতিদিন বালু মহালে গিয়ে বসে থাকে। প্রত্যেক ড্রেজার থেকে প্রতিদিন এক হাজার টাকা করে নেয়। এছাড়াও বিভিন্ন অবৈধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে ইউএনওর সম্পৃক্ততার কথাও জানান তিনি।

তবে, সাবেক কলমাকান্দা উপজেলা ভাইসচেয়ারম্যান এবং উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা রফিকুজ্জামান খোকন বলেন, ‘ওমরগাঁও, হাসানোয়াগাঁও এবং বিশাউতি বালু মহাল’ গত বছর আমাদের দায়িত্বে ছিল। সে সময় একটি ড্রেজার মেশিন বসানোর অপরাধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় আমাদের। কিন্তু এবছর মহাদেও নদীতে প্রায় ১শ’ ড্রেজার মেশিন বসানো হলেও কারো কোনো মাথা ব্যথা নেই। তবে, ড্রেজার প্রতি এক হাজার করে প্রায় এক লাখ টাকা প্রতিদিন ইউএনওর পকেটে যাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেন তিনি।

যদিও ২০২০ সালের জুলাই মাসে উপজেলার মহাদেও নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন নিয়ে সংবাদ প্রচার করে কয়েকটি বেসরকারি টেলিভিশন ও পত্রিকা। পরবর্তীতে সংবাদের বিষয়টি আমলে নিয়ে ওই বছর ৫ আগস্টের মধ্যে কলমাকান্দা থানা কর্তৃপক্ষকে তদন্তের নির্দেশ দেন আদালতের বিচারক সোহেল ম্রং। পরে থানা কর্তৃপক্ষের তদন্ত প্রতিবেদনে ঘটনার সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হন আদালত। এর পরই জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে বলা হয়।

আদালত সূত্রে জানা যায়, তৎকালীন পুলিশ তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা পাঁচ থেকে ছয়শ’ নৌকার মাধ্যমে মহাদেও নদীতে চিকনটুপ ও প্যাঁচামারী মৌজায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে। তাদের এ কার্যক্রমের মাধ্যমে তারা বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০-এর ১১ ধারা লঙ্ঘন করে। সেইসঙ্গে তাদের কর্মকাণ্ড ওই আইনের মাধ্যমে প্রণীত বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা বিধিমালা, ২০১১-এর পরিশিষ্ট ‘ক’-তে উল্লিখিত চুক্তি ফরমের ১নং শর্ত ভঙ্গ করেছে মর্মে প্রতীয়মান হয়।

এ বিষয়ে বালুমহাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসককে জানানো উচিত বলেও আদালতের নির্দেশে উল্লেখ থাকে। নির্দেশে আরও বলা হয়, বালু উত্তোলনে নদীর পাড় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, ঘরবাড়ি ভেঙে যাচ্ছে, নদীর প্রাকৃতিক পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে ও বালু উত্তোলনের শত শত নৌকা ও মেশিনের কারণে নদীর স্বাভাবিক গতিধারা বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে। সেক্ষেত্রে অবৈধ কাজে ব্যবহৃত নৌকা ও মেশিনগুলো জব্দ করা প্রয়োজন।

এছাড়া ওই সময়ে বালুমহালের ইজারাদার মাহফুজ আলম (মামুন) সহ ৩ জনের বিরুদ্ধে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০-এর ১৫ ধারায় অপরাধ আমলে নেন আদালত। অবৈধ পন্থায় বালু উত্তোলনকারীদের পলাতক হওয়ার আশঙ্কা থাকায় আদালত তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি বালুমহালের বাইরে যারা নৌকা ও মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করছে, তাদের নৌকা ও মেশিন জব্দ করতেও নির্দেশে বলা হয়।

তাছাড়া নির্দিষ্ট সীমানার বাইরে যেসব স্থানে বালু উত্তোলন করা হয়, সেসব স্থানে সতর্কতামূলক সাইন বোর্ডে ‘এখানে বালু উত্তোলন করা অপরাধ, কেউ বালু উত্তোলন করলে থানায় খবর দিন’ লিখতে হবে। একই সঙ্গে ওই লেখার নিচে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার মোবাইল নম্বর সংযুক্ত করতে হবে। আদালতের নির্দেশ পেয়ে কোন কোন স্থানে সাইন বোর্ড টানানো হলো ফটোগ্রাফসহ প্রতিবেদন দিতেও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়।

তবে, সরেজমিনে আদালতের নির্দেশনা পালনের কোনো আলমত দেখা যায়নি। পাশাপাশি গেলো বছরের তুলনায় চলতি বছরে আরো বেপরোয়া হয়ে পড়েছে বালু খেকুরা। দিনরাত সমান তালে চালিয়ে যাচ্ছে তাদের কার্যক্রম।

যদিও এ বিষয়ে কিছুই জানেন না কলমাকান্দা থানার বর্তমান ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আহাদ খান। তিনি বলেন, আমি এই থানায় নতুন এসেছি তাই পূর্বের নির্দেশনা আমার জানা নেই। এছাড়া উপজেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভাপতি (ইউএনও), জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয় থেকেও কোনো নির্দেশনা পাইনি। ইউএনও স্যারের হয়তো বিষয়টি জানা আছে, আপনি তার সাথে কথা বলেন।

এছাড়াও সীমান্তবর্তী রাস্তায় অবৈধ লড়ি চলাচলের বিষয়ে তিনি বলেন, যেহেতু বিআরটিএ থেকে এসমস্ত লড়িকে কোনো রেজি: নাম্বার দেওয়া হয় না, তাই আমারা চাইলেই লড়ির ব্যপারে বিশেষ কোনো ব্যবস্থা নিতে পারি না। তাছাড়া সারাদেশেই এসব লড়ির অবাদ চলাচল আছে।

এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অমিত রায় বলেন, ‘বালু মহাল’ ইজারা নিয়ে পাথর উত্তোলনের বিষয়টি আমার জানা নেই। আপনি জানালেন, এবার খোঁজ নিয়ে দেখবো।

এদিকে আদালতের নির্দেশনা উপেক্ষা করে নির্দিষ্ট সীমানার বাইরে গিয়ে অবৈধভাবে বালু ও পাথর উত্তোলন ও অবৈধ শত শত লড়ির চলাচলে সীমান্তবর্তী রাস্তাগুলো ধ্বংস হওয়া সত্তেও প্রশাসনের নিরব ভুমিকার কারণ জানতে কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সোহেল রানার নম্বারে একাদিকবার কল করেও কোনো সারা পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, গত বুধবার (১ সেপ্টেম্বর) উল্লেখিত বিষয়টি নেত্রকোনা জেলা প্রশাসক কাজি আব্দুর রহমানকে জানায় কলমাকান্দা.কম।

ভিডিওতে দেখুন…

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এসএম শামীম

ইমেইল : kalmakandanews@gmail.com

মোবাইল : 01627603406

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

ওয়েবসাইট ডিজাইন প্রযুক্তি সহায়তায়: ইয়োলো হোস্ট